আর্কাইভ

”জর্জ ফ্লয়েড বাংলাদেশকে কিছু শিক্ষা দিয়ে যেতে পারতো”

by | Oct 26, 2020 | আদিবাসী বিষয়ক, আন্তর্জাতিক, বাংলাদেশ, মানবাধিকার

”আমি শ্বাস নিতে পারছি না” এমনই ছিল ছেচল্লিশ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েডের ভাষ্য। ২৫ মে ২০২০ তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল তাঁর ঘাড়ে হাঁটু গেড়ে ডেরেক ছাউভিন নামের এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে।

এটা কাল্পনিক কোন চরিত্র কিংবা কাহিনী নয়। সিনেমাটিক ব্যাপারও নয়। বাস্তবে এক তাজা প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার ঘটনা আমেরিকার মত উন্নত বিশ্বকে কম্পন তুলে দিয়েছিল

 আমি নির্বাক তাকিয়ে ছিলাম দেশ-বিদেশের বহু ইংরেজি-বাংলা অনলাইন-অফলাইন সংবাদ পত্রিকাগুলোর দিকে দেখলাম বিশ্ব নির্বাক ছিল না পৃথিবীর সম্রাট ট্রাম্প প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছিল

এত দিন সে মানবতা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে অন্য দেশগুলোকে খামছি দিচ্ছিল । আজ নিজেই কুপোকাত। পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের অনাস্থা ছড়িয়ে পড়েছিল সেখানে

 অবশ্যই বাংলাদেশের পুলিশ আমেরিকার পুলিশের চেয়ে কম যায় না। এদেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে তা জানেআমার দূরের-কাছের পরিচিত বহু মানুষকে দেখেছিলাম বিভিন্ন নেতিবাচক ভঙ্গিতে রিয়েক্ট করতে। বিশেষ করে ধিক্কার-আক্রোশ জানানো হচ্ছিল, (দুইটা বাক্য?) জর্জ ফ্লয়েডের জন্য মানবিক আবেগ জেগে উঠেছিল। 

এই বর্বর ঘটনার বিরুদ্ধে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তে প্রকৃত মানবতাবাদীদের সাথে ছদ্মবেশী মানবতাবাদীরাও সরব হয়েছিল বেশ কটা দিন।

 Black lives Matter” সোশ্যাল এক্টিভিজমের জ্বরে কেঁপে উঠেছিল ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যা রাজপথে গড়িয়েছিল। যারা রাজপথে পারে নি তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার ফেইসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম যেন জর্জকে ঘিরেই পেইজের পর পেইজ লাইক, শেয়ার, কমেন্ট এর বন্যায় ছেয়ে গিয়েছিল। 

আমি নিজেও দু একটি কমেন্ট এবং ক্ষোভ জানিয়েছিলাম। 

না যদি জানাতাম তবে অপরাধবোধে আবদ্ধ থাকাতাম বহু কাল যাবত আমার ভিতরে মানবিকতার পঁচন ধরত তখন। 

ওদিকে চারপাশের অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল মার্টিন  লুথার কিং এর উত্তরসূরি বলে কথা। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবিত জর্জের চেয়ে বেশি বেপরোয়া আর শক্তিশালী ছিল সেই মৃত জর্জ।        

ঘটনা এতেই আটকে থাকে নি। আমেরিকার বহু রাজ্যে বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠে যায় সপ্তাহ দুয়েকের ভিতরপরিবর্তনের হাওয়া দেখা গিয়েছিল। অনেক জায়গায় আমেরিকার পুলিশ বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করে। 

তবে কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের উপর প্রতিরোধে নেমেছিল আমেরিকার পুলিশ। আরো একজন কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারীও মারা পড়ে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায়

 অপরদিকে সাদা চামড়ার মানুষেরাও মিছিলের সমাগমে ব্লাকদের কাঁধে কাঁধ রেখে অশ্রুপাতের সহিত ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল অনাত্মীয়ের ভেতর আত্মীয়তার মিলনমেলা যা বাস্তব ছিল।

আমি আমেরিকানদের অতীতের সাথে বর্তমানের অনেক ফারাক দেখলাম। হলিউডের বহু খ্যাতিমান তারকারাও কথায় কথায় শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিটির এই অপরাধকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছিল। কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ সিস্টারহুড–ব্রাদারহুডে রূপান্তর ঘটে গিয়েছিল

 তৎকালে শ্বেতাঙ্গ নাগরিকরা আত্ম সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেজর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকারীর উপযুক্ত শাস্তির দাবীতে শ্লোগান সবার মুখে মুখে। 

এদিকে নাটকীয়ভাবে সেই হন্তারকের স্ত্রী তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দেয় এই অমানবিক আচরনের জন্য। এতে নারী তার মানবিক ধর্মে এবং ন্যায়বাদীতায় দন্ডায়মান প্রতিভূ চারিদিকে উপস্থাপন করে। এটি নতুন কিছু বহন করেছিল সমাজে 

বিশ্ব জুড়ে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিরা তাদের অতীত জীবনের বহু বর্ণবৈষম্যের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করে যাচ্ছিল সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে। ক্রিকেট সহ বিভিন্ন খেলার জগতেও বর্ণবৈষম্য বিষয় রহিত করার কথা বলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়েরা মুখ খুলছিল। তারা খেলার অন্য সব বিধি-নিষেধ এর সাথে বৈষম্যমূলক বর্ণবাদী আচরনের জন্য কঠোর শাস্তির দাবীও জানাচ্ছিল। 

বর্ণবৈষম্যের চিহ্নও উৎখাত ঘটে যাচ্ছিল। বর্ণবৈষম্য মীন করে এমন সব বিখ্যাত ফিল্ম, ছবি, বিজ্ঞাপন, পোষ্টারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছিল এবং ইতিহাসের সেই কুখ্যাত দাস প্রথার উন্মোচকের স্ট্যাচুও মাটিতে টেনে হিঁচড়ে আস্তাকুড়ে ফেলে দেয়া হয়যা বর্তমানে কুৎসিত চিন্তার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের দেশেও কি এমন আশা করতে পারি আদৌ?  

আমেরিকার কথা বলছি, বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে ১৩৭ বছর পর রানী ইসাবেলা এবং ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মনুমেন্ট বর্ণবাদের দায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন প্রণয়নকারী নেতারা অপসারণের কথা বলেছিলেন

 রিপাবলিকান এক নেতা মনে করেন “যদি আমরা এই ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের পছন্দ না করি তবে ইতিহাস থেকে বাদ দেয়া উচিত।” বর্ণবাদের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা আত্ম সমালোচনায় মুখর ছিল যেন নেতিবাচকতা থেকে রক্ষে পাওয়ার জন্য সাদাদের এটি একটি অদ্বিতীয় হাতিয়ার ছিল 

এই আত্ম সমালোচনার মত ইতিবাচক দিকটি ঘৃণামূলক উক্তি আর আচরণকে প্রশমন করতে পারবে তারা ভেবেছিলএবং তাই প্রতীয়মান হয়েছিল ঘৃণা–বর্ণবাদ যেন ধুয়ে মুছে যায় তার জন্য শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ মিশে গিয়েছিল। 

ট্রাম্প তার গদি থেকে হুকুম দিতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ বিভাগ ঢেলে সাজাবার ব্যাপারে এবং আইনের শাসন অক্ষত রাখার কথাও বলেছিলজানি না এই কথাগুলো সত্যি হবে কিনা, নাকি লোক দেখানো? তবে ভবিষ্যৎ বলবে।   

অন্যান্য দেশগুলোর ন্যায় বাংলাদেশের মানুষ এবং গণমাধ্যমগুলোও বেশ ঘটা করে প্রকাশ করেছিল আমেরিকার বর্ণবাদী আচরণের বিষয়টি বাংলার পত্রিকায় ইয়া বড় বড় কলামে আর সোশ্যাল মিডিয়া ভরে গিয়েছিল। 

অনেক লেখক, কবি, কলামিস্টদের অসাম্প্রদায়িক এবং বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থান চোখে পড়ে। আপামর জনগণের মানবিকতা চোখে পড়ার মত ছিল। 

আদিবাসী, নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি, সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু, জাতি-বিজাতি, ধর্মী-বিধর্মী, খয়রাতি, মুনাফাখোর, নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত, শিল্পপতি, নরপতি, ভূমিপতি, নরমাল-এবনরমাল, বিজ্ঞানী-অজ্ঞানী মানে কেউ মানবতার জোয়ারে ভেসে যাওয়া থেকে বাদ যায় নি তখন ইতিহাসের এই সাক্ষী থেকে কেনই বা বাদ যাবে লিস্ট লম্বা হওয়ার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।

 বাংলাদেশে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এমন মানবতাবাদী অবস্থান এই বারই যে প্রথম তা কিন্তু নয় । ইতিহাসে বহুবার দেখেছি বাংলাদেশের আম-জনতাসহ গনমাধ্যমগুলো সবসময় ভিনদেশি আফগানী, ইরাকি, ফিলিস্তিনি, উইঘুর, কাশ্মীরি, রোহিংগা মুসলিমদের উপর অত্যাচার, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং তাদের দেশে চলমান বর্ণবাদী ব্যবহারের উপর সহানুভুতি দিয়ে দেখে আসছে 

ইসলামিক ইজম কাজ করে বলেই এমন হয় কি না তাইতো বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীলরা তাদের প্রতিবাদী অবস্থান পরিষ্কার করে আসছিলবরাবরের মত এবারও যখন বিদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িকতা এবং বর্ণবাদ দেখা গিয়েছিল তাদের চোখ এড়িয়ে যায় নি। 

তবে এবার ভিন্ন ছিল। উপরন্তু, প্রশ্ন জাগে, নিজের দেশের প্যাঁচালে ধার না ধেরে অন্য দেশের দিকে এতো মনোনিবেশ কেন?

 অথচ বাংলাদেশে আমাদের নয়ন সম্মুখে কত জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে, হচ্ছে, হবে আমরা কি তার খবর রাখি? 

অথবা বাংলাদেশি জর্জদের আদৌ ন্যায় বিচার হয় কি? সেই জর্জরা পাহাড়ে, সমতলে, উপকূলে কোথায় মারা পড়ছে না? 

উপলব্দি হচ্ছে কি সর্বদা শান্তি আর অসাম্প্রদায়িকতার ব্যানারে আমরা তক্তপোষে চাপিয়ে দিচ্ছি বর্ণবাদী আচরণ? কিংবা বাংলাদেশিরা কি কখনো অনুভব করি না, আমাদের অভ্যন্তরের বর্ণবাদী এবং সাম্প্রদায়িক আচরণসমূহ ? 

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে এমন হওয়ার কথা ছিল কিনা আমার বোধগম্য হয় না 

আচ্ছা, আমরা কি অপেক্ষা করতে পারি না, কখনো মুলস্রোতের আমজনতা রাস্তায়, মিছিলে আদিবাসীদের সাথে মিশে গিয়ে শ্লোগানে বলবে #Indigenous Life Matters, #Minority life Matters; পূর্না ত্রিপুরা, সবিতা, সুজাতার ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, কল্পনার অপহরণকারীর বিচার চাই ইত্যাদি।   

আসলে দেশির কদরের চাইতে বিদেশির কদর বেশি এই দেশে, কালে কালে তাই প্রমাণিত 

আচ্ছা, মানবিকতা তো খারাপ জিনিস নাআমার কথা হলো, করুক না- দেখাক না, মানবতা তো ইতিবাচক জিনিস। সবার জন্য মানবাধিকার এবং মানবতা প্রয়োজন আছে।

 তবে পক্ষপাতী মানবতা কি না খতিয়ে দেখা দরকার। আলাপে উঠে আসছে যে, বাংলাদেশে অগণিত সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে গেলেও নাকি সংখ্যালঘু আদিবাসী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানদের উপর প্রকৃত সহানুভূতির চোখে দেখা হয় নি ৭১ পরবর্তী থেকে 

তাই যদি না হত তবে নিপীড়ন- নির্যাতন শব্দগুলো ৭১-এই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজও নিজের দেশের মাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১২ টির আধিক  ঘটে যাওয়া গণহত্যা, বর্ণবাদ এবং সাম্প্রদায়িক হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন মানে ধামাচাপা দেওয়ার হিড়িক ছাড়া কিছুই দেখা হয় না বা অশুদ্ধ ঘটেনি এমন কর্মকান্ড। 

অথচ কোথায় মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা হয় তার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বিচারের দাবী জানিয়ে রাস্তায়, প্রেসক্লাবে হাজির হয়, পাশে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১২ টির আধিক ঘটে যাওয়া গণহত্যার বিচারের জন্য সোচ্চার হতে দেখা যায় নি কখনো এই দেশে।

 মনে করা হয়, দেশে প্রকৃত মানবতাবাদীদের আকাল পড়েছেযা আছে তাও নিতান্ত খোরপোষ টাইপের। এই সংখ্যাটাও কম নয়। তাই হয়তো মূলস্রোতের মধ্যে যাতে মানবিকতা দেখি তাতেও খুব একটা নিরপেক্ষ দেখা হয় না যতটা না প্রচ্ছন্ন বাঙ্গালী স্বার্থবাদী জাতীয়তাবাদ দেখি

 অন্যসব পেপার পত্রিকা বাদই দিলাম, BBC এর মত বাঘা আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রও বাঙ্গালী স্বার্থবাদী জাতীয়তাবাদকে তুলে ধরে প্রচ্ছন্নভাবে। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে বিশ্লেষণের নামে গুরু ও আসল কারণ তুলে ধরাটিকে এড়িয়ে গিয়ে লঘু কারণ বাতলে দেয়। 

”রোয়াংছড়িতে সেনা ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিঃ মা নিহত ও শিশু আহত” শিরোনাম দিয়ে অনলাইন-অফলাইন সাম্প্রদায়িক দৈনিক পত্রিকাগুলো চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। অথচ তঞ্চঙ্গ্যা নারীটির মৃত্যুর কারণ ভিন্ন ছিল। আর তারা প্রকৃত স্রোত অন্য দিকে মোড় দিতে ব্যস্ত 

সাঁওতাল পল্লী জ্বলে, হিন্দু-বৌদ্ধ মন্দির পুড়ে, কল্পনা, মাইকেল চাকমাদের হদিস মিলে না, অভিজিতরা লাশ হয়, পূর্ণারা ধর্ষিত হয়,পীরেন বাবু-মংদেরকে হত্যা করা হয়, সংখ্যালঘু আর আদিবাসীরা দেশান্তরী হয়। তারপরও এদেশের ৯৮% জনতার মানবতা নিশ্চুপ 

নিজের দেশের বর্ণবাদ নিয়ে স্বয়ং আমার বাঙালি বন্ধুরাও মুখে কুলূপ মেড়ে থাকেন কারণ, তারাও তাই অন্যরা যাঅর্থাৎ বর্ণচোরা অসাম্প্রদায়িকতার আড়ালে সাম্প্রদায়িক, পাক্ষিক, বর্ণবাদ ছোঁড়াছুড়ি চলে এ দেশে  

অহরহ আদিবাসী আর সংখ্যালঘু নির্যাতন যখন ঘটে যায় তখন তাদের চোখ বিশেষ ছানা বড়া এভাবে বিশ্বে বর্ণবৈষম্যের কেচ্ছা যখন উন্মোচিত হয়, দিকে দিকে তখন বাংলাদেশে প্রতিদিন এমনতর কেচ্ছাগুলো ধামাচাপার পায়তারাতে চলতে থাকে নানাবিধ অণু ঘটনা আর নাটকের মধ্য দিয়ে। 

কংস মামার দেশ কিনা বুঝলাম না। এই জন্যই তো আশাহত থেকে ক্ষোভ জন্ম নেয় নিপীড়িত মানুষদের। তাই বাহুল্য অর্থে ”ছদ্মবেশী মানবতা” শব্দদ্বয় প্রাণ দিয়েছিলাম পূর্বের এক লাইনে। 

কৌতূহলী হয়ে জানতে ইচ্ছে করে, কেন এ দেশের আপামর মূলস্রোতের জনতা   নিজের দেশের ভেতর ঘটে যাওয়া বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা এমনকি বর্ণবাদ উপলব্দি করতে পারছে না? 

কবে বুঝবে ? কেন তারা দেরি করছে বুঝতে? সমীকরণে গণ্ডগোল হচ্ছে না তো ? 

দ্বান্দিক বস্তুবাদ, দ্বিজাতি তত্ত্ব সহজেই গিলে খেতে পারলেও আত্মসমালোচনা এবং প্রকৃত মানবপ্রেমী হওয়া থেকে বিরত থাকছে কেন? 

অথচ বহির্বিশ্বে নিজেদেরকে মানবতাবাদী হিসেবে কথায় কথায় জানান দিয়ে থাকেনদিয়ে যাচ্ছেন। এইটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? 

ব্রিটিশ অথবা আমেরিকান সাদাদের কাছ থেকে কুনীতি যেমন শেখার আছে, সুনীতিগুলোও গ্রহণ করা দরকার। মানুষ মাত্রই ভালো জ্ঞানের তুলনায় খারাপ জ্ঞানে এক্সপার্ট হয় তাড়াতাড়ি। বঙ্গ দেশ কি কেবল  কুনীতিই শিখল তবে? সুনীতির কদর কি নেই? 

আসলে আত্মসমালোচনা কেন দরকার? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে, মূলত আত্মসমালোচনা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সমাজ, জাতি, দেশকে পরিশুদ্ধ আর কলুষমুক্ত রাখে এবং পরিশীলিত করে। 

যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবেও কাজ করে। যুগোপযোগী  স্মার্ট বৃত্তি, গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য এই পন্থা অবলম্বন করা অতীব জরুরি। তাছাড়া নিজের সীমাবদ্ধতা, ভুল শুধরে নেয়ার মাঝেই একে অপরের মিত্র হওয়াসহ দূরত্ব ঘুচে যায়। 

আত্মসমালোচনা বিমুখতা কোন কালেই সুখকর ছিল না। এর ফলে অহং, অসহনশীল, সংযতহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত, একদেশমূখী, অবিবেচক, একনায়ক, কলুষপূর্ণ করে তোলে একে অপরের সম্পর্ক

 এতে বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা কাজ করে। কিংবা সার্বজনীন ইতিবাচকতা বর্জিত হয়ে উঠে দিনে দিনে। তাই সময়ের সাথে সাথে ইতিবাচক টেকনিক রপ্ত করে জাতিতে জাতিতে দূরত্বের অবসান ঘটানো দরকার। ছোট-বড় সকল জাতিতে প্রকৃত আত্মশুদ্ধির শিক্ষা গ্রহণেই সামগ্রিক মঙ্গল নিহিত রয়েছে

 

নাদেং পুত্তি

১৭/০৬/২০২০

পপুলার পোস্ট

Related Post

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনঃ উপনিবেশবাদ নাকি সার্বভৌমত্ব রক্ষা। দ্বিতীয় পর্ব

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনঃ উপনিবেশবাদ নাকি সার্বভৌমত্ব রক্ষা। দ্বিতীয় পর্ব

Ananya Azad March 4, 2014 তাদের গঠনতন্ত্র গুলোতে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে বাঙলাদেশিদের নিরাপত্তার কথা বলা নেই। বলা আছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের নিরাপত্তা...

পাহাড়ে নারীবাদী দর্শনের সাম্প্রতিক সংকট ও উত্তরণ ভাবনা

পাহাড়ে নারীবাদী দর্শনের সাম্প্রতিক সংকট ও উত্তরণ ভাবনা

সংযুক্ত পেইন্টিইং এর শিল্পী- চানুমং মারমা লেখক- লেখকঃ ধীমান ওয়াংঝা    এদেশের নারীবাদী দর্শন বা নারীর প্রতি পুরুষের সহিংসতাকে থিওরাইজ বা তত্ত্বায়ন...

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনঃ উপনিবেশবাদ নাকি সার্বভৌমত্ব রক্ষা। প্রথম পর্ব

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনঃ উপনিবেশবাদ নাকি সার্বভৌমত্ব রক্ষা। প্রথম পর্ব

Ananya Azad February 28, 2014 বাঙলাদেশ সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে একটি পেশাদার সেনাবাহিনী। তার সাথে আছে যেমন গৌরবোজ্জল ইতিহাস তেমনি অনেক কালো অধ্যায় ।...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *