আর্কাইভ

পর্যটন ও প্রমোদকেন্দ্র নির্মানের নামে ম্রোদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন

by | Nov 2, 2020 | জনপ্রতিরোধ, বিশেষ প্রতিবেদন, সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম

বান্দরবানের থানচি-চিম্বুক এলাকায় বাংলাদেশ আর্মির ২৪ পদাতিক ডিভিশন, ৬৯ ব্রিগেড, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং বিতর্কিত শিকদার গ্রুপের অর্থায়ন ও প্রকল্প পরিচালনায় প্রস্তাবিত ম্যারিয়ট নামের পাঁচতারা হোটেল ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মানের কারণে নিলগিরি-চিম্বুক এলাকার বিস্তৃত আদিবাসী জনপদের ম্রো সহ অন্যান্য স্থানীয় আদিবাসীরা উচ্ছেদ হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় আদিবাসীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গত ৭ই অক্টোবর স্মারকলীপি পেশ করেছিলেন। ভূমিপুত্র আদিবাসীদের ভূমি রক্ষার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আজ আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন এক সংবাদ বিবৃতি প্রেরণ করেছে। বিবৃতিতে স্থানীয়দের ভূমি উচ্ছেদে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি উক্ত পর্যটন প্রকল্প বাতিল এবং সকল পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আদিবাসীদের মুক্ত-জ্ঞাত-অবহিত পূর্বক সম্মতিতে যুক্ত করার (Free Prior and Informed Consent)   নীতি পালনের দাবি জানায় আন্তর্জাতিক কমিশন।

পার্বত্য চুক্তি সহ কোন প্রকারের আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আদিবাসীর ভূমি বেদখল করে চলেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিকদার গ্রুপের মত একটি বিতর্কিত শিল্প গোষ্ঠীর সাথে গাঁটছড়া বেঁধে যে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে তাতে করে স্থানীয়রা শুধুমাত্র বাস্তুহারাই হবেন না, তাতে করে তাঁদের জীবন-জীবিকা-ও আবহমান সংস্কৃতির উপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়বে।

বিবৃতিতে প্রস্তাবিত পাঁচতারা হোটেল নির্মান অবিলম্বে বাতিল করা সহ নিম্নোক্ত দাবিনামা তুলে ধরা হয়ঃ

  • স্থানীয়দের সাথে সম্মতিক্রমে এবং আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের সাথে পরামর্শক্রমে সকল পর্যটন বা উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত করতে হবে।
  • আঞ্চলিক পরিষদের আদিষ্ট হয়ে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন মেনে, পর্যাপ্ত অর্থ ও ক্ষমতা প্রদান করে পার্বত্য ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে।
  • ভূমি কমিশন কর্তৃক সকল ভূমি বিরোধের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে প্রদত্ত সকল বানিজ্যিক লিজ যেখানে রাবার বাগান, উদ্যান-চাষ এবং শিল্প কারখানা  গড়ে উঠেছে সেসব স্থগিত করতে হবে।
  • জনস্বার্থে আবশ্যক ভূমি অধিগ্রহন ব্যতিরেকে আর কোন উদ্দেশ্যে আদিবাসীর ভূমি দখল করা যাবে না এবং যাদের ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, বিকল্প ভূমির যোগান এবং সম্পুর্ন পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী সর্বস্তরের পাহাড়ি আদিবাসীকে গণ্য করতে হবে বিশেষ করে যাঁদের প্রথাগত ভূমি অধিকার রয়েছে কিন্তু দালিলিক প্রমাণ নেই।
  • পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কাউন্সিল, জেলা পরিষদ এবং স্থানীয় সকলের মুক্ত-জ্ঞাত-অবহিত পূর্বক সম্মতিতে যুক্ত করার (Free Prior and Informed Consent)   নীতি পালন করতে হবে।
  • পার্বত্য চুক্তির সকল ধারা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

পপুলার পোস্ট

Related Post

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনঃ উপনিবেশবাদ নাকি সার্বভৌমত্ব রক্ষা। দ্বিতীয় পর্ব

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসনঃ উপনিবেশবাদ নাকি সার্বভৌমত্ব রক্ষা। দ্বিতীয় পর্ব

Ananya Azad March 4, 2014 তাদের গঠনতন্ত্র গুলোতে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে বাঙলাদেশিদের নিরাপত্তার কথা বলা নেই। বলা আছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের নিরাপত্তা...

পর্যটনের আড়ালে সাজেকের কান্না : দুর্ভোগে জনতা

পর্যটনের আড়ালে সাজেকের কান্না : দুর্ভোগে জনতা

সংযুক্ত পেইন্টিংঃ শিল্পী তুফান রুচ সাজেক একটি ইউনিয়নের নাম যা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন; যেটি দেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার...

পাহাড়ে নারীবাদী দর্শনের সাম্প্রতিক সংকট ও উত্তরণ ভাবনা

পাহাড়ে নারীবাদী দর্শনের সাম্প্রতিক সংকট ও উত্তরণ ভাবনা

সংযুক্ত পেইন্টিইং এর শিল্পী- চানুমং মারমা লেখক- লেখকঃ ধীমান ওয়াংঝা    এদেশের নারীবাদী দর্শন বা নারীর প্রতি পুরুষের সহিংসতাকে থিওরাইজ বা তত্ত্বায়ন...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *