jummo voice
Test Slider 1

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

Test Slider 1

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

Test Slider 3

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

Test Slider 4

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

Test Slider 5

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

Test Slider 6

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

Test Slider 7

Lorem ipsum dolor sit amet, adipiscing elit. Etiam quis metus in enim congue ornare. Sed vitae leo placerat, venenatis massa at, dictum nisl. Suspendisse efficitur eros ligula, eget dapibus ex pellentesque quis. In nec quam auctor, aliquet ex vitae, suscipit lectus.

previous arrowprevious arrow
next arrownext arrow
Slider

আর্কাইভ

বাংলাদেশ, পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিকায়ন ও আদিবাসী নিধনের ইতিহাসঃ প্রথম পর্ব

by | Nov 18, 2020 | বিশেষ প্রতিবেদন, মানবাধিকার

লেখকঃ ডেনিম চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণ, তাদের শেষ আবাসভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্য কোন জাতির আধিপত্য মেনে নেয় নি। পাহাড়ি আদিবাসীরা মনে করে, তাদের মাতৃভূমিতে তাদের নিরঙ্কুশ অধিকার থাকবে। যখনই অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে তখনই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছে পাহাড়ি আদিবাসী সমাজ।

কেন এই প্রতিবাদ, মানুষ কেন বিদ্রোহ করে, তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে টি, আর, গুর  লিখেছেন, ‘When an established Socio-political order is suddenly put into disorder by any external thrust, resistance is inevitable no matter how simple or complex the society affected might be.’ এই কথাটা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

মোঘল সাম্রাজ্যের সময় থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সমতলবাসী বা বাঙালির অনুপ্রবেশ শুরু হয়। মোঘল আমল থেকেই পাহাড়ে দখলদারিত্ব শুরু হয়। ব্রিটিশ উপনিবেশের পরে পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার পুনর্বাসন শুরু হয় ছেষট্টি সালে।

ভারতের বিহারে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ফলে পূর্ব পাকিস্তানে লক্ষাধিক বিহারী মুসলিম প্রবেশ করে।  এই সুযোগে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বিহারীদের এক অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করে দেয়। তাদের রক্তে তখনো দাঙ্গার উন্মাদনা ছিল। তারপর পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পনা অনুযায়ী বিহারীরা পাহাড়ে আদিবাসীদের ভূমি দখল করা শুরু করে, শুরু হয় ধর্ষণ, হত্যাকান্ড।

পাহাড়ি আদিবাসীরা প্রতিবাদ জানায়, বিচার চায়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে পাকিস্তান সরকার পাহাড়ি আদিবাসীদের ক্ষোভ দেখায়।  ছেষট্টি সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সরকারি সফরে চিনে যান। তাঁর অবর্তমানে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন  জাতীয় পরিষদের স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরী।

তারপর  দুই দিনেই ফজলুল কাদের চৌধুরী কয়েক হাজার মুসলিম বাঙালি পরিবারকে অনুপ্রবেশ করিয়ে লুটপাট, আদিবাসীদের ভূমি দখল, কয়েকটি আদিবাসী গ্রামে  হামলা চালানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তান সরকারের আমলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যে নীতি ও পরিকল্পনার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে দায়ী করা হয়।

তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক পুনর্বাসনের সরকারি নীতির সমালোচনা করা হয় বাংলাদেশের কয়েটি দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীতে। ১৯৮০, ১০ অক্টোবরে প্রকাশিত গণকন্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়,

“উপজাতিদের প্রবল প্রতিবাদ ও বিরোধীতা সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলার এক লক্ষ অনুপজাতি পরিবারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে।”

প্রতি পরিবার আড়াই একর সমতল জমি বা সমতল-অসমতল মিলিয়ে চার একর জমি বা পাঁচ একর পাহাড়ি জমি এবং নগদ ৩ হাজার ২ শত টাকা দেওয়া হয়, সরকারিভাবে। সৌদি আরব ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার(বাঙালি) পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হাতে নেয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন দেওয়া জন্য বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে নিজ নিজ জেলায় ভূমিহীন ও ভাসমান জনসংখ্যার তালিকা প্রস্তুত করতে সরকার গোপন নির্দেশনা পাঠিয়েছিল ১৯৮০, সেপ্টেম্বরে।

সেই নির্দেশনা হুবহু তুলে ধরা হলঃ 

                                                             SECRET

                                                                                                      Commissioner

                                                                                                     Chittagong Division

 

Memo No. 66(c)C

To: Mr.

It has been decided that landless/river erosion effected people from your district will be settled in Chittagong Hill Tracts-(CHTS). The settlement will be done in selected zones and each family will be given khas land free of cost according to the following scale:

Plain land             ……………                                           …………… 2.5 acres

Plain and dumpy mixed.   …………                                 …………… 4 acres

Hilly land       ………………                                           …………… 5 acres

                 It has been decided that you will send 5,000 families.

 

You are requested to collect particulars of intending and -suitable families from the Chairman or the concerned Union Parishads sought them out and furnish list to the Deputy Commissioner, CHTS, through special messenger by the 30th of Sept./80 at the latest. To keep paper record or the selected settlers, group leaders and issue of Identity Card in all the districts in an uniform manner, details guidelines have been prepared (copy enclosed) so that you can ensure strict compliance of the concerned Union Parishad Chairman.

It is the desire or the Govt. that the concerned Deputy Commissioner will give top priority to this work and make the programmed a success. You are requested to immediately call a meeting of the concerned Chairman, union Parishads and give them detailed instructions in the matter.

I would like to have a report about the action taken by you in tune matter by 1S.9.80 positively for information of the Govt.

Sd/- Saifuddin Ahmed

4.9.80

Commissioner

-Chittagong Division.

 

  Reference:

১) আই, এফ, ও আর-এর ইউরোপিয়ান রিপোর্ট ২৮শে মার্চ, ১৯৮৩, নেদারল্যান্ড।

২)  প্লান্ড এথনোসাইড অফ ন্যাশানাল মাইনরিটিস ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস, বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের আবেদন, ২৫শে এপ্রিল, ১৯৮৩, লন্ডন।  

3. Burger, Julian. The Chittagong Hill Tracts: militarization, oppression and the hill tribes. Anti Slavery Society, 1984.

স্বাধীনতার পরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেকেই বলেন, ভারতের মিজো বিদ্রোহীদের দমনের জন্য ভারতকে সহযোগিতা করা জন্য ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।  পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার পুনর্বাসনের হার তীব্র ও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে পঁচাত্তরের আগস্টের পর, সারা দেশে যখন নেমে আসে সামরিক শাসন।

পঁচাত্তরের ৭ই নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর  ক্যান্টনমেন্ট বড় করা হয়। এবং সৈন্য সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়।  পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে বসানো হয়, সামরিক, আধাসামরিক ও পুলিশ ক্যাম্প। বসানো হয় স্থুল ও জলপথে চেকপোস্ট।

পাহাড়ি আদিবাসীদের আন্দোলন দমনের জন্য মহালছড়িতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ধল্যাছড়িতে নৌ ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি পাঁচ জন পাহাড়ি আদিবাসীর জন্য একজন সৈন্য রাখা হয়েছিল। বস্তুত, পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি মিলিটারি জোনে পরিণত করা হয়।

সামরিক বাহিনীর অবস্থানের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলঃ

বাহিনীর নাম                                         ব্যাটেলিয়ন ডিভিশন                                  সৈন্য সংখ্যা

বাংলাদেশ আর্মি                                     ২৮তম পদাতিক ডিভিশন                          ২৫,০০০ জন

বাংলাদেশ রাইফেল                                ৮ ব্যাটেলিয়ন                                            ১২,০০০ জন

আনসার                                                ২ ব্যাটেলিয়ন                                             ৮,০০০ জন

পুলিশ                                                  ৫ ব্যাটেলিয়ন                                              ৬,০০০ জন

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র                                                                                                        ৫,০০০ জন

Reference: উলফ গেং মে, জেনসাইড ইন বাংলাদেশ, চিটাগাং হিল ট্র্যাক, অন মডার্ন এশিয়ান স্ট্যাডিজের ৭ম ইউরোপিয়ান কনফারেন্স ১৯৮১, লন্ডন।

পুরো পার্বত্য অঞ্চলকে তিনভাগে ভাগ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্তৃপক্ষ গোপনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অপেরেশন এলাকা ঘোষণা করে। তিন ভাগে বিভক্ত করা পার্বত্য অঞ্চলগুলো হল, সাদা, সবুজ ও লাল।

সাদা অঞ্চলঃ মুসলিম বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা সাদা বা নিরপেক্ষ অঞ্চলে।

সবুজ অঞ্চলঃ যে সকল আদিবাসীদের ভূমি দখল করে তাদের সেনা ক্যাম্পের শরণার্থী শিবিরে রাখা হয় সেই এলাকাগুলো সবুজ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

লাল অঞ্চলঃ আদিবাসী অধ্যুষিত গভীর গভীর অরণ্যাঞ্চল। এইসব এলাকা লাল অঞ্চলে  চিহ্নিত করে সামরিক অভিযান চালানো হয়। বাংলাদেশ সরকার সামরিকায়নের মাধ্যমে আদিবাসী নির্মূল করার জন্য নীতি পরিষ্কার হয়ে উঠেছিল ১৯৭৭, ২৪ ডিসেম্বরে সেনাবাহিনী আয়োজিত খাগড়াছড়ি জনসভায়। কয়েক হাজার আদিবাসীকে বন্দুকের নলের মুখে জনসভায় হাজির করা হয়েছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন সেনাধ্যক্ষ মেজর জেনারেল মঞ্জুর জনসভায় বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, এই এলাকায় মুসলিম জনসাধারণদের আশ্রয় দিয়ে হবে। উপজাতিরা যদি সহযোগিতা না করে যদি বিরোধীটা করে পরিণতি হবে ভয়াবহ। আমরা তোমাদের(আদিবাসী) চাই না, আমরা তোমাদের মাটি চাই।

Reference:

১। রিসেন্ট ডেভেপমেন্ট ইন দি চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস এন্ড অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কন্সারন কনসার্ন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট ৪ নভেম্বর, ১৯৮০। 

২। দি ল্যান্ড প্রবলেম অফ হিল ট্রাইবেলস, ন্যাশানাল কমিশন ফর জাস্টিস এন্ড পীস, ঢাকা, বাংলাদেশ, ১৯৮৩।

শুরু হয় মিলিটারি অপারেশন। গণহত্যা, বিনা বিচারে আটক, ধর্ষণ, জীবন ধারণের দ্রব্যসামগ্রী নিষেধাজ্ঞা, বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস, গ্রামের পর গ্রাম শ্মশানে পরিণত হয়। ১৯৮০ সালের ২৫শে মার্চ কলমপতি ইউনিয়নে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। দিনটি ছিল হাটবার। স্থানীয় মিলিটারি কমান্ডার হাটে ঢোল পিঠিয়ে ঘোষণা করে দেয় যে, পোয়াপাড়া বৌদ্ধ মন্দির মেরামত করা হবে। 

আদিবাসীরা বৌদ্ধ মন্দির মেরামত করতে মন্দিরের প্রাঙ্গণে সমবেত হয়।  তার কিছুক্ষণ পর মিলিটারি কমান্ডার আদিবাসীদের উপর গুলি ছুড়তে নির্দেশ দেয়। প্রায় তিন শতাধিক আদিবাসী মানুষকে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেটেলার বাঙালি গ্রামগুলো লুঠ করা শুরু করে হেডম্যান পাড়া পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়। ১৯৮০, ২২শে এপ্রিল বিরোধী দলের তিন সংসদ সদস্য শাজাহান সিরাজ (জাসদ), উপেন্দ্রলাল চাকমা (জাসদ) ও রাশেদ খান মেনন (ওয়ার্কার্স পার্টি) ঘটনা তদন্ত করতে কলম্পতি যান।  গণহত্যায় নিহত আদিবাসীদের গণসমাধিও তাঁরা পরিদর্শন করেন।

Reference:  তিন সংসদ সদস্য শাজাহান সিরাজ, রাশেদ খান মেনন, উপেন্দ্রলাল চাকমার সাংবাদিক সম্মেলন, ঢাকা প্রেস ক্লাব, ২৫শে এপ্রিল, ১৯৮০।

জাতীয় রাজনৈতিক নেতারা এই  ভয়াবহ গণহত্যা গুরুত্বও দেয় নি। সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে, আওয়ামিলীগ, ন্যাপ ও সিপিবি নীরব ভুমিকা পালন করেছিল। সংসদের ভিতরে এবং বাইরে কলমপতি গণহত্যা নিয়ে সোরগোল ওঠার পর এই হত্যাকান্ড কেন হল, তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে প্রেসিডেন্ট জিয়া। কমিটিতে বিরোধীদল কিংবা আদিবাসী নেতাদের কাউকেই নেওয়া হয় নি। 

বলাবাহুল্য, তদন্ত কমিটি কোন রিপোর্ট পেশ করেনি। গণহত্যাকারী সামরিক বাহিনীর কারোর’ই বিচার হয়নি।  ১৯৮০ সালে ডিসেম্বরে জিয়া সরকার সংসদে ‘দুর্গত এলাকা বিল উনিশ শ আশি’ পাশ করিয়ে নেয়। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আরও গণহত্যা চালানোর বৈধ রাস্তা তৈরি হয়। এই আইন অনুসারে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর বা মিলিটারির এন, সি, ও (নন কমিশন অফিসার) যে কোন ব্যক্তিকে বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার কিংবা গুলি করার নির্দেশ দিতে পারবে।

পুলিশ এবং মিলিটারি যে কোন বাড়িতে তল্লাশী চালাতে পারবে। অস্ত্র মজুত করা হয় সন্দেহে যে কোন বাড়ি পোড়াতে এবং ভূমি অধিকরণ করতে পারবে। সংসদে উপেন্দ্রলাল চাকমা বিলের উপর মন্তব্য করে বলেল, “ঝুলির বেড়াল বেড়িয়ে পড়েছে। এটা এখন পরিষ্কার যে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সমূহের সমাধান গণহত্যার মাধ্যমেই করতে চায়।”

১৯৮১ সালের ২৮শে এপ্রিল, দুর্গত এলাকা বিলের উপর লন্ডনের ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘That the army and police would be immune from challenge in the courts and could enter any premises without warrant. For the paramilitary opposition that Act was seen sanctioning violation of human rights. Such legislation is indeed extraordinary since even legislation enacted in war time, such as the Defence of India Rules passed during the second world war or the Defence of Pakistan rules promulgated during 1965 do not provide such powers of shooting to kill as are provided under the proposed Disturbed Areas Act.’ (আতিকুল আলম, বাংলাদেশ শুট অন সাইট বিল, দি গার্ডিয়ান, লন্ডন, ২৮শে জানুয়ারী, ১৯৮১)।

দুর্গত এলাকা বিলের প্রমাণ শুরু ১৯৮১ ২৬শে জুন থেকে। ওই দিন সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় সদ্য পুনর্বাসিত মুসলিম বাঙালি আদিবাসী এলাকায় দাঙ্গা লাগায়। তিন দিন ব্যাপী চলে এই নরকীয় উৎসব। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেলতলি ও বেলজডি গ্রাম। হত্যা করা হয় ৫০০ নিরীহ আদিবাসী শিশু ও নারী। হাজার হজার আদিবাসী ভারতের ত্রিপুরায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বাকিরা পালিয়ে যায় গভীর অরণ্যাঞ্চলে।

খাগড়াছড়ি মহকুমার ফেনী উপত্যকায় ৩৫টি আদিবাসী গ্রামে হামলা চালানো হয়।  হত্যা করা এক হাজারের বেশি আদিবাসীকে। প্রাণের ভয়ে হাজার হাজার আদিবাসী আশ্রয় নেয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে।  শরণার্থী ক্যাম্পে কলেরা ও আমাশয় রোগে মারা যায় আরও কয়েকশ শিশু। ভারত সরকার শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে জিয়া সরকারকে অনুরোধ করে।

কিন্তু জিয়া সরকার ভারতে শরণার্থী যাওয়ার কথা অস্বীকার করে। শুধু তাই নয়, বিদেশে পত্র- আদিবাসী জনগণের উপর নৃশংস অত্যাচারের খবর অস্বীকার করে প্রতিবাদ জানায় বিএনপি সরকার। তখন প্রাণের ভয়ে গভীর অরণ্যাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া আদিবাসীরা গাছের শেকড় এবং লতাপাতা খেয়ে দুর্ভিক্ষ জীবন কাটাচ্ছে। ম্যালেরিয়া প্রাদুর্ভাবে মহামারী আকারে রুপ নেয়।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবনে প্রয়োজনীয় পণ্যের যেমন চাল, ডাল, লবণ, তেল, কাপড় ও ঔষধপত্র নেওয়ার উপর সেনাবাহিনী কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রতি পরিবার সপ্তাহে দুই কিলোর বেশি চাল কেনা যাবে। ঔষধ কিনতে হলে সরকারি অফিস থেকে অনুমতি নিতে হত। পত্রিকায় প্রকাশিত অবশেষে দেশ-বিদেশ ও মানবাধিকার সংস্থার চাপে জিয়া বা বিএনপি সরকার অত্যাচারের নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। দেশে ফিরিয়ে আনা হয় আঠার হাজার আদিবাসী শরণার্থী।

Reference:

  • Bangla hill area dead roll 500 no Indian held in Bangla incident, The times of India, 27 September, 1981.
  • More influx of Tribal, The times of India, 27 September, 1981.
  • And Tribal influx Bangla told, The times of India, Delhi, 3 July, 1981.
  • Shattered Lives, CHAKMAS, Special Report, India Today, February, 1987.
  • চট্টগ্রাম থেকে ত্রিপুরাতে শরণার্থী বাড়ছে, আনন্দবাজার, ৩০শে জুন, ১৯৮১।
  • Malaria Victims, The Times, 3 October, London, 1983.
  • Genocide policy Alleged in Bangladesh, The Guardian, 16 December, 1980.
  • Malaria Deaths, The Times of India, Delhi, 29 April, 1981.
  • Amnesty International. Bangladesh: unlawful killings and torture in the Chittagong Hill tracts. Amnesty International, 1986.

 

 

পপুলার পোস্ট

Related Post

সাজেকে বন, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে এবং পাহাড়ি উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সাজেকে বন, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে এবং পাহাড়ি উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সাজেকে বন, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে এবং সেনাক্যাম্প স্থাপন, পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ ও তথাকথিত উন্নয়নের নামে পাহাড়ি  উচ্ছেদের প্রতিবাদে...

চিম্বুকের ম্রোদের  ভূমি বেদখল করে পাঁচতারা হোটেল নির্মান বাতিলের দাবীতে বান্দরবানে লংমার্চ অনুষ্ঠিত

চিম্বুকের ম্রোদের ভূমি বেদখল করে পাঁচতারা হোটেল নির্মান বাতিলের দাবীতে বান্দরবানে লংমার্চ অনুষ্ঠিত

চিম্বুকের নাইতং পাহাড়ে পাঁচতারকা হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের নামে ম্রোদের ভূমি বেদখল অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি কয়েক হাজার ম্রো...

কেন আমি সাজেক বা এই ধরণের ট্যুরিস্ট স্পটে যাই না

কেন আমি সাজেক বা এই ধরণের ট্যুরিস্ট স্পটে যাই না

এই দেশে আদিবাসীরা সবচে উপেক্ষিত সেইটা নতুন কইরা বলার কিছু নাই। ১৯৫০ থাইকাই আদিবাসীদেরকে নিজ ভূমি থাইকা উচ্ছেদ করা হইতাছে বারংবার কখনো বিদ্যুৎ...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *