আর্কাইভ

চিম্বুকের ম্রোদের ভূমি বেদখল করে পাঁচতারা হোটেল নির্মান বাতিলের দাবীতে বান্দরবানে লংমার্চ অনুষ্ঠিত

by | Feb 7, 2021 | বিশেষ প্রতিবেদন, মানবাধিকার, সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম

চিম্বুকের নাইতং পাহাড়ে পাঁচতারকা হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের নামে ম্রোদের ভূমি বেদখল অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি কয়েক হাজার ম্রো চিম্বুক পাহাড় থেকে বান্দরবান শহর অভিমুখে ২১ কি.মি. দীর্ঘ লংমা্র্চে অংশ নিয়েছেন।

‘হোটেল ম্যারিয়ট এন্ড এমিউজম্যান্ট পার্ক’ নামক এই প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে সেনা কল্যাণ ট্রাস্ট ও সিকদার গ্রুপের আর এন্ড আর হোল্ডিংসের যৌথ সহযোগীতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবাদে গত চার মাস ধরে সেখানকার স্থানীয় আদিবাসীরা প্রতিবাদ করে আসছেন।

প্রতিবাদকারীদের দাবী, এই রিসোর্ট করার জন্য স্থানীয় অধিবাসীদেরকে বাগানের কথা বলে ২০ একর জমি নিয়ে তা সেনাবাহিনীকে ইজারা দেয় বান্দরবান জেলা পরিষদ। কিন্তু স্থাপনা নির্মাণে সীমানা নির্ধারণে প্রায় ১০০ একর পর্যন্ত দখল করা হয়েছে।

এছাড়া, বিনোদন পার্কের অংশ হিসেবে নীলগিরি থেকে নাইতং পাহাড় পর্যন্ত ক্যাবলকার রাইড চালু করার কারণে প্রায় ১০০০ একর ভোগদখলীয় ও চাষের জমি বেদখল হয়ে যাবে, যার ফলে আশেপাশের ৬ টি গ্রাম সরাসরি উচ্ছেদের মুখে পড়বে এবং ১১৬ টি পাড়ার আনুমানিক ১০ হাজার বাসিন্দার ঐতিহ্যবাহী জীবিকা, চাষের ভূমি, ফলজ বাগান, পবিত্র জায়গা, শ্মশান ঘাট ও পানির উৎসগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

বেআইনীভাবে ভূমি দখলের প্রতিবাদে বিগত ৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় গত ৮ নভেম্বর ২০২০ তারিখে কয়েকশো ম্রো নারীপুরুষ কাপ্রুপাড়া বাজার এলাকায় কালচারাল শোডাউনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

কালচারাল শোডাউনের মধ্য দিয়েই মূলত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণ যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে নানান সংস্থা, খ্যাতনামা ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হোটেল নির্মাণ অব্যাহত থাকে।

প্রতিবাদকারীদের দাবী, প্রতিবাদ সমাবেশের পর স্থানীয় পাড়াবাসী, জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবাদে অংশ নেয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের নানান ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতা ও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

এছাড়া, প্রকল্প নির্মাণের জায়গায় স্থানীয় মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ সেখানে গেলে তাদেরকে লাঞ্চিত করাসহ মৃত্যুর হুমকি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে।

এমতাবস্থায় স্থানীয় জনগণের ক্ষতি বিবেচনায় প্রশাসনের উদাসীনতাসহ হোটেল ও বিনোদন পার্ক নির্মাণের প্রতিবাদে নিম্নোক্ত ৫ টি দাবী নিয়ে চিম্বুক পাহাড়ের আদিবাসীরা লং মার্চে অংশ নেন। তাঁদের দাবীগুলো ছিলো-

১) চিম্বুকের নাইতং পাহাড়ের পাঁচ তারকা হোতেল ও বিনোদনকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প বাতিল করতে হবে।

২) অবৈধভাবে ভূমি দখলের বিরূদ্ধে প্রতিবাদকারী স্থানীয় পাড়াবাসী, জনপ্রতিনিধি, ছাত্র জনতাক্র হয়রানি ও হুমকিধামকি প্রদান বন্ধ করতে হবে।

৩) চিম্বুকের ম্রোদের বংশ পরম্পরায় ভোগদখলীয় ভূমিতে কোন ধরণের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪) স্থানীয় মানুষের ভূমি দখল করে নীলগিরি পর্যটনকেন্দ্র সম্প্রসারণের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না।

৫) যে উদ্দেশ্যেই চিম্বুক পাহাড়ের ভূমি ব্যবহার করা হোক না কেন তা স্থানীয় কার্বারী, হেডম্যান, জনপ্রতিনিধি ছাড়াও চিম্বুক পাহাড়ের সকল পাড়াবাসীকে অন্তর্ভূক্ত করে আলোচনা করতে হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশের এই আয়োজন থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সকল সচেতন নাগরিকের কাছে চিম্বুক পাহাড়বাসীর জীবন জীবিকা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা ও প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস রক্ষার জন্য এবং অবৈধ ও জবরদস্তিমূলকভাবে ম্রোদের বংশপরম্পরায় ভোগদখল করা ভূমি বেদখল হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার আহবান জানানো হয়।

পপুলার পোস্ট

Related Post

রাঙামাটির ভূষণছড়া হত্যাকান্ড নিয়ে দেশের মূলধারার মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে  জুম্ম ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম এর প্রতিবাদ ও  বিবৃতি

রাঙামাটির ভূষণছড়া হত্যাকান্ড নিয়ে দেশের মূলধারার মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে  জুম্ম ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম এর প্রতিবাদ ও  বিবৃতি

গত ৩১ মে ২০২১, দেশের মূল ধারার মিডিয়া যমুনা টিভি, ইনডিপেনডেন্ট টিভি, এসএ টিভি, ডিবিসি নিউজ টিভি, সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাকসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ভূষণছড়া...

পার্বত্য চট্টগ্রামের জেন্ডার ভিত্তিক বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের জেন্ডার ভিত্তিক বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ

শহর অঞ্চলের সমাজঃ পাহাড়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্তিতি হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাঙালি সংস্কৃতিক আগ্রাসন। পাহাড়ের মানুষ বাঙালি সংস্কৃতি গ্রহণ করতে...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *