আর্কাইভ

রাঙামাটির ভূষণছড়া হত্যাকান্ড নিয়ে দেশের মূলধারার মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে  জুম্ম ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম এর প্রতিবাদ ও  বিবৃতি

by | Jun 2, 2021 | মানবাধিকার, সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম

গত ৩১ মে ২০২১, দেশের মূল ধারার মিডিয়া যমুনা টিভি, ইনডিপেনডেন্ট টিভি, এসএ টিভি, ডিবিসি নিউজ টিভি, সমকাল, দৈনিক ইত্তেফাকসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ভূষণছড়া হত্যাকান্ড নিয়ে কল্পনাপ্রসূত ও মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ।

দুটো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো, প্রথমতঃ যমুনা টিভির  ‘ভূষণছড়া হত্যাকান্ড: ৪’শ বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে শান্তিবাহিনী ,‘‘ ও  দৈনিক ইত্তেফাকে‘র শিরোনাম  ‘‘ভূষণছড়া ৪৫০ বাঙালি হত্যার বিচার হয়নি ৩৭ বছরেও‘,।

উক্ত প্রতিবেদনগুলোতে  জুম্ম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পদ্ধতিগতভাবে  বিদ্বেষ বা ঘৃণার প্রচার করা হয়েছে যা পক্ষপাতদুষ্ট এবং বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী ।

এসব প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা ইউএনও, বহিরাগত সেটেলার বাঙালি ও সাজানো গনহত্যার স্বজনদের বক্তব্য থাকলে ও স্থানীয় জুম্ম, জুম্ম জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক সংগঠন  জেএসএস এর কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য  প্রকাশিত হয়নি ।

জুম্ম ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম – এই ঘৃণা প্রচারের ঘৃণ্য অপসাংবাদিকতার  তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সেই সাথে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছে ।

জুম্ম জনতার অনলাইন মুখপাত্র, জুম্ম ব্লগার ও  অনলাইন এক্টিভিস্টবৃন্দ এহেন বিদ্বেপূর্ণ “হেইট প্রোপাগান্ডা” সম্প্রচার বন্ধ করার আহবান জানায় এবং সকল নাগরিককে এই ধরনের ঘৃণ্য প্রোপাগান্ডা পরিহারের (To avoid and boycott such heinous hate rhetoric) অনুরোধ জানাচ্ছে।

আমরা গভীর শংকার সাথে লক্ষ্য করে আসছি- দেশের বড় ধরনের মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে গয়েবলসের ভূত জেঁকে বসেছে, যারা জাতিগত ঘৃণার সম্প্রচার করে আসছে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে।

আজ লংগদু ট্রাজেডির ৪ বছর পূর্তি হয়েছে। চার বছর আগে আজকের দিনে লংগদুতে তিন শ’র অধিক জুম্ম জনগোষ্ঠীর বসতভিটায় আগুন দিয়েছিলো রাষ্ট্রের রেশনপূষ্ট সেটলাররা। সেই ঘটনারও সূত্রপাত হয়েছিলো রাষ্ট্রীয় মদতে, বিদ্বেষ-ঘৃণার প্রচার তথা গুজবের প্রচারের মধ্য দিয়ে।

একই প্রকৃতির বিদ্বেষ-ঘৃণার প্রচার তথা গুজবের প্রচার রাষ্ট্রীয় মদতেই হচ্ছে কি না- সেটাই দেশের সকল সচেতন নাগরিকের প্রশ্ন। দেশের উপরোক্ত প্রধান মিডিয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ ৩৭ বছর আগের প্রশ্নবিদ্ধ তথাকথিত কল্পিত গণহত্যা খুঁজে পায়- কিন্তু মাত্র চার বছর আগে আদিবাসী পল্লী পোড়ানোর ঘটনা কি কিছুই স্মরণ করতে পারে না? এই বিস্মৃতি কি তবে জাতিগত ঘৃণা প্রসূত নয় বা জাতিগত অন্ধত্ব নয়্ ?

পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ‘এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নির্মূলীকরণের‘ অংশ হিসেবে জুম্ম জনগণের উপর ডজনের অধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে । আজ পর্যন্ত কোন মিডিয়ায় তার কোন উল্লেখ নেই। এইসব কি মিডিয়ার পক্ষপাতদূষ্টতা নয়? এইসব কি মিডিয়ার জাত্যান্ধতা নয়? দেশের সচেতন সকল নাগরিকের কাছে আমরা এই আলাপের আহবান জানাই এবং এই সকল প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অনুরোধ জানাই।

এসব গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার ও শ্বেতপত্র প্রকাশের জোর দাবি জানিয়ে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন, ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরব হলেও সরকার আজো এই প্রশ্নে নিরব । অধিকন্তু মূলধারার মিডিয়া সরকারি নীতির অংশীদার হয়ে   উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে  জুম্ম জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা ঘৃণার প্রচার করে যাচ্ছে।

‘‘জুম্ম  ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম‘‘ আগামীতে দেশের সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সকলকে সাংবাদিকতার মূলনীতির কথা স্মরণ করিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে মূলধারার মিডিয়াকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানাচ্ছে ;

এবং সেই সাথে দেশের সকল সচেতন নাগরিকের কাছে আহবান জানাচ্ছে- দেশের মূলধারার মিডিয়ার ঘৃণার প্রচার তথা হেইট প্রোপাগাণ্ডার বিষয়ে সতর্ক হোন ও আওয়াজ উঠান। বাংলাদেশকে বহু জাতির সম্মীলন ভূমি, রেইসিজম ও জাতিগত বিদ্বেষ মুক্ত স্বদেশ হিসাবে গড়ে তুলুন।

পপুলার পোস্ট

Related Post

পার্বত্য চট্টগ্রামের জেন্ডার ভিত্তিক বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের জেন্ডার ভিত্তিক বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটঃ

শহর অঞ্চলের সমাজঃ পাহাড়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্তিতি হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাঙালি সংস্কৃতিক আগ্রাসন। পাহাড়ের মানুষ বাঙালি সংস্কৃতি গ্রহণ করতে...

আন্দোলন মানে একটি জীবন যাপন করা

আন্দোলন মানে একটি জীবন যাপন করা

(১) জীবন থেকে নেয়া এক যুগেরও অধিক কাল আগের কথা। তুমুল ছাত্র রাজনীতি করতাম তখন। বছরে এক-দু বার রাজনৈতিক শিক্ষাশিবির হতো। সেখানে মার্ক্সবাদ, ভাবাদর্শ,...

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *